থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে যে নামটি এই মুহূর্তে বেশ চর্চিত, তা হল প্যাঁতংতাণ শিনাওয়াত্রা। এই তরুণী, যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসীন শিনাওয়াত্রার কন্যা, দেশের রাজনীতিতে নিজের জন্য অনন্য স্থান তৈরি করেছেন। তিনি তার সাহসী বক্তব্য এবং মানুষের সাথে যোগাযোগের ক্ষমতার জন্য পরিচিত।
একটি রাজনৈতিক পরিবারের উত্থানপ্যাঁতংতাণ ১৯৬৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা থাকসীন শিনাওয়াত্রা একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন যিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্যাঁতংতাণের মা, পোজামান দামাফONG, থাকসীনের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন।
প্যাঁতংতাণ একটি রাজনৈতিক পরিবারে বড় হয়েছেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির সংস্পর্শে এসেছিলেন। তাঁর দাদা একজন মন্ত্রী ছিলেন এবং তাঁর আঙ্কেলও রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। এমন পরিবেশে বেড়ে ওঠা প্যাঁতংতাণকে রাজনীতির প্রতি আগ্রহী হয়ে তোলে।
শিক্ষা এবং কর্মজীবনপ্যাঁতংতাণ কিং মংকুটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে রাজনীতি বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
স্নাতক হওয়ার পর, প্যাঁতংতাণ একটি দাতব্য সংস্থায় কাজ করা শুরু করেন। তিনি তরুণদের জন্য একটি নেতৃত্ব বিকাশ কর্মসূচি তৈরি এবং পরিচালনা করেন। তিনি তরুণদের জন্য শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নত করার জন্যও কাজ করেছিলেন।
রাজনীতিতে প্রবেশ২০১৯ সালে, প্যাঁতংতাণ ফু থুয়েন পার্টিতে যোগ দেন। এই দলটি তাঁর পিতার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্যাঁতংতাণ দলের সহ-নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন।
২০২৩ সালে, پ্যাঁতংতাণকে ফু থুয়েন পার্টির জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী করা হয়। তিনি নির্বাচনে জয়ী হন এবং থাইল্যান্ডের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজনৈতিক মতাদর্শপ্যাঁতংতাণ一名একজন মধ্যপন্থী রাজনীতিবিদ। তিনি সামাজিক ন্যায়বিচার, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নতকরণে বিশ্বাস করেন। তিনি দুর্নীতি দমন এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবনপ্যাঁতংতাণ বিবাহিত এবং তাঁর একটি কন্যা আছে। তিনি ব্যায়াম করা, বই পড়া এবং বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে পছন্দ করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় এবং তাঁর অনুসারীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করেন।
প্যাঁতংতাণ শিনাওয়াত্রা থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে উঠে আসা একটি প্রতিশ্রুতিশীল রাজনীতিবিদ। তাঁর সাহসী বক্তব্য এবং মানুষের সাথে যোগাযোগের ক্ষমতা তাঁকে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ করে তুলেছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে থাইল্যান্ডের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ হবে।
তিনি একজন ব্যক্তিকেও কার্যকরীভাবে কিভাবে শাসন করতে হয় তার একটি উদাহরণ পেশ করছেন। তিনি যেমন একজন সফল ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিবিদ, তিনি একজন ভালো স্ত্রী এবং মাও। তিনি সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে একটি অনুপ্রেরণা।
আমরা প্যাঁতংতাণ শিনাওয়াত্রার রাজনৈতিক কর্মজীবনের জন্য শুভকামনা জানাই। আমরা বিশ্বাস করি যে তিনি থাইল্যান্ডের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যত নির্মাণ করতে সক্ষম হবেন।